চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকায় একের পর এক আলোচিত ঘটনার মধ্যে থানাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হলো।
সম্প্রতি কোতোয়ালি
থানার পেছনে প্রকাশ্যে এক রিকশাযাত্রীকে ছুরি
দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পাথরঘাটার
সতীশ বাবু লেনে ঘটনার
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে
ব্যাপক আলোচনা হয়। ভিডিওতে দুই
ব্যক্তিকে এক যাত্রীর কাছ
থেকে টাকা ও মুঠোফোন
ছিনিয়ে নিতে দেখা যায়।
পরে তাঁরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পালিয়ে যান।
ঘটনার পর
পুলিশ অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন নামের
একজনকে গ্রেপ্তার করে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত
অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে
পুলিশ।
সড়কে
ঝটিকা
মিছিল
এর আগে
লালখানবাজার-কাজীর দেউড়ি সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের
নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত ও
জনবহুল সড়কে প্রকাশ্যে এমন
মিছিলের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এই দুই
ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার
মধ্যেই কোতোয়ালি থানার ওসির বদলির খবর
আসে।
তিন
মাসেই
বদলি
সোমবার (২১
সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত
মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম
আওলাদ হোসেনের সই করা আদেশে
আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে
ডিএমপিতে বদলি করা হয়।
আদেশে নাজমুন
নূরসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে
২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ
দিতে ছাড়পত্র নিতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে ছাড়পত্র না
নিলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে
তাঁদের ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
গত ১৭
জুন সিএমপির আদেশে নাজমুন নূর কোতোয়ালি থানার
ওসির দায়িত্ব পান। এর আগে
তিনি পটিয়া ও সন্দ্বীপ থানায়
ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পটিয়ার ঘটনাও
আলোচনায়
নাজমুন নূরের
বদলির আগে পটিয়া থানায়
দায়িত্ব পালনের সময়ও একটি ঘটনা
আলোচনায় এসেছিল। গত বছরের ১
জুলাই রাতে রাঙামাটি জেলা
ছাত্রলীগের এক নেতাকে সোপর্দ
করা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে
থানা-পুলিশের বিরোধ হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ
ছিল, থানায় তাঁদের ওপর লাঠিপেটা করা
হয় এবং এতে অন্তত
২৩ জন আহত হন।
পুলিশের দাবি ছিল, পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছিল
তারা। পরে আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও ডিআইজি কার্যালয়
ঘেরাও করে প্রায় নয়
ঘণ্টা অবরোধ করেন।
এর পরদিন
রাতে নাজমুন নূরকে পটিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার
করে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে
তাঁকে সন্দ্বীপ থানায় দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ
সদর দপ্তরের সর্বশেষ আদেশে নাজমুন নূরকে ডিএমপিতে বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ
করা হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে
নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে।