ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
365 D News

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা, কটাক্ষ করলেন ট্রাম্প

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সকে বিপ্লব ঘটানোর আদর্শ জায়গা বলে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উপহাস করে ট্রাম্প বলেন, চলো ফ্রান্সে যাই। দারুণ জায়গা! কোনো দাঙ্গা নেই, বিপ্লব নেই। আসলে, ফ্রান্স তো বিপ্লব ঘটানোর জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা! অবিশ্বাস্য! চলো ফ্রান্সে যাই আর বিপ্লবে যোগ দিই।এদিকে ফ্রান্সে চলমান সহিংসতার জন্য দেশটির অভিবাসন ও সামাজিক একীভূতকরণ নীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী এনেছেন। কিন্তু তাঁদের সমাজের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন।বিক্ষোভে লাখো মানুষ, সংঘর্ষে উত্তাল বিভিন্ন শহরশনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে আয়োজিত পদযাত্রাগুলো একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের পর রোববার সকালে সড়কগুলোতে ভাঙচুরের চিহ্ন, পোড়া গাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা দেখা যায়।প্যারিসে লুটপাট, লিমোজে ঐতিহাসিক ভবনে আগুনবিক্ষোভ-সহিংসতায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্যারিসে গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র।লিমোজ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো একটি টাউন হল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্সেই ও লিলে দুটি টাউন হলে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ছাড়া লিওঁ শহরের একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার কারণে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও সরকারি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।দায়ীদের বিচারের ঘোষণা ম্যাক্রোঁরফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এসব অপরাধের জন্য দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।একদিকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ, অন্যদিকে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা সব মিলিয়ে ফ্রান্সে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি

ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা, কটাক্ষ করলেন  ট্রাম্প