নড়াইলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হাসান শেখ ওরফে পান্নু (৪০) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পান্নুর মৃত্যু হয়।
নিহত পান্নু
নড়াগাতী থানার চরকান্দিপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
সংঘর্ষে তাঁর ছোট ভাই
রাসেল শেখও মাথায় গুলিবিদ্ধ
হয়েছেন। তাঁর অবস্থা সংকটজনক
বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
দুই
পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ
পুলিশ ও
নিহতের স্বজনেরা জানান, কলাবাড়িয়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সোহেল
মেম্বার পক্ষ ও আবেদ
আলী শেখ পক্ষের মধ্যে
দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে
আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার
সকালে উভয় পক্ষ দেশীয়
ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে
পড়ে।
সংঘর্ষের সময়
আবেদ আলী শেখ পক্ষের
ছোড়া গুলিতে সোহেল মেম্বার পক্ষের সমর্থক পান্নু ও তাঁর ভাই
রাসেলসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হন
বলে পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য।
ঘটনার পর
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক
চিকিৎসার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায়
তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো
হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে পান্নুর
মৃত্যু হয়।
ঢাকায়
লাইফ সাপোর্টে রাসেল
পান্নুর ছোট
ভাই রাসেল শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বজনেরা
জানান, সেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা
হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁকে
নিবিড় পর্যবেক্ষণে (লাইফ সাপোর্ট) রাখা
হয়েছে।
হামলা,
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
পান্নুর মৃত্যুর
খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর
পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর
জেরে প্রতিপক্ষ আবেদ আলী শেখ
পক্ষের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা
ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে
জানা গেছে।
এ ঘটনায়
এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘাত
ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা
দিয়েছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।