ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
365 D News

আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিএনপির ছায়ায় ‘রিকশা বশির’



আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিএনপির ছায়ায় ‘রিকশা বশির’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি বশির আহমেদ (হেলমেট পরিহিত) নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন।

একসময় দিনমজুরি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বশির আহমেদ। এখন এলাকায় তিনি পরিচিতরিকশা বশিরনামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, রিকশা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ছিলেন বশির। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, পোস্ট অফিস রোড, আফতাবনগর পুলিশ প্লাজা এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনা এবং চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বশিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ২০০টির বেশি অবৈধ অটোরিকশা এবং ৩০০টির বেশি ম্যানুয়েল রিকশা। ছাড়া পুরো ওয়ার্ডের হাজার হাজার রিকশা থেকেও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদার অর্থের একটি অংশ স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ, থানা প্রভাবশালী মহলের কাছে যেত বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ পানির সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

বশিরের রিকশার গ্যারেজ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বশিরের শ্যালক আলাচন আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক সিন্ডিকেট এসব গ্যারেজ ব্যবহার করে। সেখানে মাদক সংরক্ষণ কেনাবেচার পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি রিকশা চোর চক্রের সদস্যদের যাতায়াত আশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বশিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আন্দোলন দমনে অংশ নেওয়া এবং সরকারের পক্ষে এলাকায় মাইকিং করার অভিযোগে বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় বশির এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পর বশিরের রাজনৈতিক পরিচয়ও বদলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সাবেক সংগঠনের নেতারা। বাড্ডা থানা রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল আহমেদ বলেন, ‘বশির আগে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং সহসভাপতি ছিল। তবে পটপরিবর্তনের পর সে এখন বিএনপি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের পরও বশির তাঁর আগের প্রভাব রিকশা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একটি মামলায় আসামি থাকার পরও কীভাবে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Image

বিষয় : দিনমজুরি রিকশা বশির আহমেদ রাজনৈতিক প্রভাব শ্রমিক লীগ

365 D News

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিএনপির ছায়ায় ‘রিকশা বশির’

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

একসময় দিনমজুরি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বশির আহমেদ। এখন এলাকায় তিনি পরিচিতরিকশা বশিরনামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, রিকশা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ছিলেন বশির। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, পোস্ট অফিস রোড, আফতাবনগর পুলিশ প্লাজা এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনা এবং চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বশিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ২০০টির বেশি অবৈধ অটোরিকশা এবং ৩০০টির বেশি ম্যানুয়েল রিকশা। ছাড়া পুরো ওয়ার্ডের হাজার হাজার রিকশা থেকেও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদার অর্থের একটি অংশ স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ, থানা প্রভাবশালী মহলের কাছে যেত বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ পানির সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

বশিরের রিকশার গ্যারেজ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বশিরের শ্যালক আলাচন আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক সিন্ডিকেট এসব গ্যারেজ ব্যবহার করে। সেখানে মাদক সংরক্ষণ কেনাবেচার পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি রিকশা চোর চক্রের সদস্যদের যাতায়াত আশ্রয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বশিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আন্দোলন দমনে অংশ নেওয়া এবং সরকারের পক্ষে এলাকায় মাইকিং করার অভিযোগে বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় বশির এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পর বশিরের রাজনৈতিক পরিচয়ও বদলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সাবেক সংগঠনের নেতারা। বাড্ডা থানা রিকশা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল আহমেদ বলেন, ‘বশির আগে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং সহসভাপতি ছিল। তবে পটপরিবর্তনের পর সে এখন বিএনপি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের পরও বশির তাঁর আগের প্রভাব রিকশা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একটি মামলায় আসামি থাকার পরও কীভাবে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


365 D News


কপিরাইট © ২০২৬ 365 D News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে বিএনপির ছায়ায় ‘রিকশা বশির’
0:00 0:00
1.0x