ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
365 D News

২৪ জুলাই: অভিযান, গ্রেপ্তার ও দমন–পীড়নের মধ্যে কেটেছিল আন্দোলনের আরেক রক্তাক্ত দিন

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত ছিল। সরকারি হিসাবে ১৭ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২০১ ছাড়ায়, যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়। এদিন সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে ঢাকাতেই ছিলেন ৬৪১ জন। আট দিনে মোট গ্রেপ্তার দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার।স্বজনহারা পরিবারের শোকের মধ্যে আলোচনায় আসে নারায়ণগঞ্জের সাড়ে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপের মৃত্যু। পরিবারের অভিযোগ, বাসার ছাদে বাবার কোলে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই সময়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেলে আরও কয়েকজন আহতের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক- আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রশিদুল ইসলাম রিফাত-নিখোঁজ থাকার পাঁচ দিন পর ২৪ জুলাই রাজধানীর পৃথক স্থানে ফিরে আসেন। পরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, আটকে রেখে তাদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।এদিকে একই দিনে গণভবনে এডিটরস গিল্ডের ব্যানারে কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকও আলোচনায় আসে। বৈঠকে আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ওই বৈঠকের বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।সেই সময় তৎকালীন সরকার আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। অন্যদিকে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে বলপ্রয়োগের ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা প্রকাশ করে।

২৪ জুলাই: অভিযান, গ্রেপ্তার ও দমন–পীড়নের মধ্যে কেটেছিল আন্দোলনের আরেক রক্তাক্ত দিন