ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
365 D News

৬৪ বছরেও গতি ফেরেনি দিনাজপুর বিসিক শিল্পনগরীতে

প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি দিনাজপুর বিসিক শিল্পনগরী। এখানকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধুঁকে ধুঁকে চলছে। সীমানাপ্রাচীর, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতায় ভুগছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবেই দীর্ঘদিনেও শিল্পনগরীর সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি।দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় ১৯৬২ সালে ৩৫ দশমিক ১৪ একর জমির ওপর ৪৫ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়। প্রতিষ্ঠার সময় ১৮৯টি শিল্প প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্লটের মোট জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৭৪ একর। বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিল্প প্লটগুলোর মধ্যে ৫৪টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি উৎপাদনে আছে। খাদ্যজাত শিল্প, চালকল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল, বনজ, বেকারি, সিলভার, স্বয়ংক্রিয় ময়দা তৈরির কারখানা এবং ডাল-তেলের মিলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে।তবে ব্যাংকঋণে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ঋণখেলাপি হওয়া এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় মেসার্স হাবিবা অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড ও মেসার্স রুপন অয়েল অ্যান্ড ফিডস (প্রা.) লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। শিল্পনগরীতে এ, বি, সি ও ডি এই চার ধরনের মোট ১৮৯টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার বর্গফুটের এ-টাইপ প্লট ৩৩টি, ৯ হাজার বর্গফুটের বি-টাইপ ৪২টি, সাড়ে চার হাজার বর্গফুটের সি-টাইপ ৬৪টি এবং ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ডি-টাইপ প্লট ৬৫টি।শিল্প ইউনিটগুলো মোটামুটি উৎপাদনে থাকলেও শিল্পনগরীতে সীমানাপ্রাচীর ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সারা বছরই শিল্পনগরীর বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় চুরি-ডাকাতির আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিসিকের তথ্যমতে, এখানে প্রায় ৪ হাজার ৮২৫ শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৩৭৭ জন এবং নারী ১ হাজার ৪৪৮ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।বর্তমানে শিল্প ইউনিটগুলোতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বছরে এসব ইউনিটের মোট উৎপাদনের মূল্য ৩০২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এসব শিল্প ইউনিট থেকে সরকারি খাতে বছরে আয় হয় ২০১ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা। শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে শিল্পনগরীতে চলাচলে সমস্যা হয়। এতে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজও ব্যাহত হয়।উদ্যোক্তারা বলেন, প্রতি বছর প্রতি বর্গফুটে ৩ টাকা ৫০ পয়সা সার্ভিস চার্জসহ ভ্যাট ও খাজনা বাবদ মোট ৪ টাকা ৩১ পয়সা দিতে হয়। কিন্তু এর বিপরীতে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। মিল মালিক ফজলুর রশিদ বলেন, এখানে ব্যবসা করে কখনো কোনো ধরনের সুবিধা পাইনি। বিভিন্ন সমস্যার কথা বিসিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে, সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি।ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকঋণ সুবিধা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো হলে শিল্পনগরীটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে। দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি নুরুজ্জামান সরকার বলেন, ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে বিসিককে উদ্যোগ নিতে হবে।দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অটো রাইস মিলের মালিক আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, প্রতিবছর সার্ভিস চার্জ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। এ কারণে নতুন উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সেবা ছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব নয়। দিনাজপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলাম সীমানাপ্রাচীর, রাস্তা, ড্রেন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শিল্পনগরীটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের প্রাক্কলন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।

৬৪ বছরেও গতি ফেরেনি দিনাজপুর বিসিক শিল্পনগরীতে