আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব নয়: শফিকুর রহমান
ক্ষমতাসীন দল
ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই যদি আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন
করেন, তাহলে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি
বজায় রাখা সম্ভব নয়
বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর
রহমান।বৃহস্পতিবার বিকেলে
সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এ কথা
বলেন।দেশের আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ
করে ডা. শফিকুর রহমান
বলেন, সরকারে যারাই আসে, তারাই দাবি
করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো।
কিন্তু ‘আগের’ বলতে কী বোঝানো
হচ্ছে, সেটিই স্পষ্ট নয়। আর বাস্তবে
ভালো পরিস্থিতির চিত্রও কোথাও দেখা যাচ্ছে না।তিনি বলেন,
‘আইনশৃঙ্খলা আগের চাইতে ভালো—এটা সরকারের সার্বক্ষণিক
দাবি। কিন্তু বাস্তবে ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে কোথাও কি
নিরাপত্তা আছে? কিছুদিন আগে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার ছেলেকে
হত্যা করা হলো। এখন
নিজেদের ব্যর্থতা ও দায় এড়াতে
ওই ছেলেটিকেই উল্টো “দুষ্ট” বানানোর চেষ্টা চলছে।’জামায়াত আমির
বলেন, ‘সে দুষ্টও হয়ে
থাকলে তাকে কি এভাবে
মেরে ফেলতে হবে? তাকে সংশোধনের
কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও
দেখতে হবে। এভাবে দায়
এড়িয়ে উদোর পিণ্ডি বুধোর
ঘাড়ে চাপানো কোনো শুভ লক্ষণ
নয়।’ক্ষমতাসীন দলের
নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
সরকারদলীয় শীর্ষ নেতারাই সংসদ ও বিভিন্ন
বক্তব্যে অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা
হাতবদলের কথা স্বীকার করছেন।
তাঁদের দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই
এখন এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন—এমন অভিযোগও তাঁদের
বক্তব্যে এসেছে। বড় বড় মাদকের
চালান কোন এলাকা দিয়ে
দেশে আসছে, সে বিষয়েও তাঁদের
সিনিয়র নেতারা কথা বলেছেন বলে
দাবি করেন তিনি।বিরোধী দলের
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও
সহিংসতার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন ডা. শফিকুর
রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা
কি পাগল নাকি যে
নিজেদের কর্মসূচি সফল করার পরিবর্তে
আগের দিন গাড়িতে আগুন
দেব? যাদের লক্ষ্য বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভণ্ডুল করা, আগুন বা
সহিংসতা তারাই তৈরি করে।’তিনি রাজনৈতিক
প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য পরিহার করে দেশে প্রকৃত
আইনের শাসন, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায়
সরকারকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা
পালনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময়
সভায় সিলেট জেলা ও মহানগর
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা এবং স্থানীয় প্রিন্ট,
ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের
সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।