ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
365 D News

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় শতাধিক হিসাবে টাকা নেই, অভিযোগ ১০ কোটি লোপাটের

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক হওয়ার পর শতাধিক গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক অর্থ লোপাটের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ব্যাংকের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শতাধিক হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত নয়।রোববার সকাল থেকে শ্রীনগর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় থাকা অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার সামনে গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে। মূল ফটক থেকে বাইরে পর্যন্ত গ্রাহকেরা নিজেদের হিসাব যাচাই করতে জড়ো হন। একপর্যায়ে কয়েকজন গ্রাহক শ্রীনগর প্লাজার গেটের কাচ ভাঙচুর শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।হিসাব যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন গ্রাহক তাঁদের হিসাবে থাকা লাখ লাখ টাকা দেখতে পাননি। এ ঘটনায় কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একের পর এক হিসাব থেকে টাকা গায়েব হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ও আহাজারি দেখা দেয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, রোববার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আরও অনেক গ্রাহক অভিযোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীনগর শাখায় আমানত লোপাটের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রাহক ব্যাংকে ভিড় করেন। তবে তার দুই দিন আগ থেকেই ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার ১৪টি হিসাব থেকে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা গায়েব হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এতে ব্যাংকটির প্রবাসী ও নারী গ্রাহকসহ প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পলাতক ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামানের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শরীফুজ্জামান ও ক্যাশিয়ার মো. জিন্নাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।শরীফুজ্জামানের ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটে নেওয়া টাকা গ্রাহকেরা ফেরত পাবেন কি না—এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ব্যাংকের অডিট টিম কাজ করছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবে। এরপর গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজিএম আরও বলেন, কতজন গ্রাহকের কত টাকা লোপাট হয়েছে, সব হিসাব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। অভিযোগ গ্রহণ শুধু রোববারেই শেষ হচ্ছে না। কোনো গ্রাহকের হিসাবে অসংগতি ধরা পড়লে পরবর্তী সময়েও তিনি অভিযোগ করতে পারবেন।

অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় শতাধিক হিসাবে টাকা নেই, অভিযোগ ১০ কোটি লোপাটের