ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
365 D News

সাবেক সচিব নজরুলকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, তুষারধারার কয়েকটি ভবন নিয়েও তদন্তের দাবি

এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়া, সরকারি নিয়োগ ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং সম্পদ অর্জন এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে সাবেক সরকারি সচিব নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার কয়েকটি ভবনের নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।তাঁদের দাবি, নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি কথিত প্রভাবশালী বলয় সরকারি দপ্তরে বদলি-পদায়ন, নিয়োগ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নামও অভিযোগে এসেছে।তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য ছাড়া এসব দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।এক দিনে চার পদোন্নতির দাবিঅভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনেই চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন নজরুল ইসলাম। তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ ও অনুমোদনের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।একই সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর কথিত প্রভাববলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে অভিযোগনজরুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে দাবি করা কয়েকজনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদায়ন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মুমিনের পরিচালক পদে নিয়োগের বিষয়ও রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার নথি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট আদেশ যাচাই ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সোহেল রানার চাকরির ব্যবস্থা করার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাই প্রয়োজন।তুষারধারার তিন ভবন নিয়ে প্রশ্নরাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার কয়েকটি ভবন নিয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।১০ নম্বর সেক্টরের ভবন: অভিযোগকারীদের দাবি, ২৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বহুতল ভবনে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটির অনুমোদন এবং অকুপেন্সি সনদসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার: ৯ নম্বর সেক্টরের এই ভবনটি নিয়ে অভিযোগ, ২০২২ সালে রাজউক অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। ভবনটির অনুমোদিত নকশা, রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি এবং অকুপেন্সি সনদ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট: ৪ নম্বর সেক্টরের এই ভবন নিয়ে মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০১৭ সাল থেকে রাজউক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।তবে এসব ভবনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে রাজউকের নথি, পরিদর্শন প্রতিবেদন, অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অগ্রগতি যাচাই করা জরুরি।সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ননজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।তবে বরাদ্দটি বিধিসম্মত ছিল কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরির তথ্য, যোগ্যতা, আবেদন, বরাদ্দপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা প্রয়োজন।সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগঅভিযোগকারীরা ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে কয়েকজনের সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয় তুলে ধরেছেন। অভিযোগে ফ্ল্যাট, প্লট, স্কুল, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কথা রয়েছে।এ ছাড়া কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম অভিযোগে আসা মানেই সেটি অনিয়মে জড়িত এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, নিবন্ধন, আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিঅভিযোগকারীরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পদোন্নতির আদেশ, নিয়োগ ও পদায়নের নথি, সরকারি আবাসন বরাদ্দ, ভবনের অনুমোদন এবং সম্পদ অর্জনের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পর্যালোচনা, স্বাধীন তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। নজরুল ইসলামসহ অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য এবং রাজউক, দুদক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

সাবেক সচিব নজরুলকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, তুষারধারার কয়েকটি ভবন নিয়েও তদন্তের দাবি