ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
365 D News

পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে বাংলাদেশ ৩৩তম: মন্ত্রী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর ভৌত স্টার্ট-আপের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে বৈশ্বিক পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘Atomic Technologies Licensed for Applications at Sea (ATLAS) Ministerial Launch Event 2026’-এ বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে নতুন ধরনের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ সচেতন।সমুদ্রভিত্তিক ব্যবহারের জন্য উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (SMR) এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদ ও সময়োপযোগীভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ বাড়তে থাকায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। উন্নত ও স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য ও কম কার্বন নিঃসরণের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে দারিদ্র্য হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও এর ভূমিকা থাকতে পারে।মন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় প্রথম Global Stocktake-এর ফলাফলে পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার তিন গুণ করার ঘোষণাকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং সীমিত দেশীয় জ্বালানি সম্পদের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থার বহুমুখীকরণের ওপর বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, উন্নত স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর, যার মধ্যে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে, দ্রুত ও নিরাপদভাবে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।IAEA-এর ATLAS উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন পক্ষকে একত্র করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।মন্ত্রী বলেন, ATLAS উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে বেসামরিক পারমাণবিক সামুদ্রিক শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।২৫ থেকে ২৭ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর ‘Atomic Technologies Licensed for Applications at Sea (ATLAS)’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বেসামরিক জাহাজ ও সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থায় SMRসহ পারমাণবিক প্রযুক্তির নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক কাঠামো ও সহযোগিতা গড়ে তোলা।অনুষ্ঠানে IAEA-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, পারমাণবিক ও সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজ ও পারমাণবিক প্রযুক্তি শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।প্যানেল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, কেনিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।

পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে বাংলাদেশ ৩৩তম: মন্ত্রী