ঢাকা    শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
365 D News

আগাম পাট কাটায় যশোরের চাষিদের লোকসানের শঙ্কা

অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে যশোরের অনেক কৃষক এবার পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাট কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। এতে ফলন ও আঁশের মান কমে যাওয়ায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।যশোরের রামনগর ও চাঁচড়া ইউনিয়নের বিলহরিণা এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটপূর্ণ থাকায় এবার ভারী বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।চাষিরা জানান, বুকসমান পানিতে পাট কাটতে গিয়ে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। পাশাপাশি আগাম কাটায় অপরিপক্ব ও নিম্নমানের আঁশ পাওয়া যাচ্ছে। চাষি পলাশ কুমার সরকার বলেন, পানির মধ্যে পাট কাটতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শ্রমিক লাগছে। এতে উৎপাদন খরচও বেড়েছে।কৃষি বিভাগ বলছে, সাধারণত বপনের প্রায় ১২০ দিন পর ভাদ্র মাসের শেষ দিকে পাট কাটার উপযুক্ত সময়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক আগেই পাট কাটতে বাধ্য হয়েছেন।চলতি মৌসুমে যশোরে ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় সাড়ে তিন টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও জলাবদ্ধ এলাকায় ফলন কমেছে।কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে। অথচ বর্তমানে প্রতিমণ পাট ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেনের দাবি, চলতি মৌসুমে পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা ভালো দামও পাচ্ছেন। সরকারি ক্রয়কেন্দ্র ও পাটকলগুলো কার্যকরভাবে পাট কিনলে কৃষকেরা আরও ভালো দাম পাবেন।

আগাম পাট কাটায় যশোরের চাষিদের লোকসানের শঙ্কা