কলকাতা পুলিশে ৪৭ মুসলিম সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন নাকচ
কলকাতা পুলিশে
কর্মরত ৪৭ জন মুসলিম
পুলিশ সদস্য ও হোমগার্ডের দাড়ি
রাখার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন
নাকচ করে দিয়েছে লালবাজার।
কলকাতা পুলিশের কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা
একটি মেমোতে বলা হয়েছে, বাহিনীতে
প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ
সব পুলিশকর্মীকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।কলকাতা পুলিশের
জয়েন্ট কমিশনার অব পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)
স্বাক্ষরিত ওই মেমোতে জানানো
হয়েছে, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য ও হোমগার্ডদের কাছ
থেকে মোট ৪৭টি আবেদন
জমা পড়েছিল। আবেদনকারীরা কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশের
মতো ইউনিটে কর্মরত। মেমোর সঙ্গে আবেদনকারীদের নাম, পদমর্যাদা ও
বর্তমান কর্মস্থলের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।আবেদনকারীদের অনেকে
ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে দাড়ি রাখার কথা
জানিয়েছিলেন। তবে লালবাজারের নির্দেশনায়
বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দ বা কারণ যাই
হোক না কেন, বিভাগীয়
শৃঙ্খলার বিধিতে কোনো ছাড় দেওয়া
হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের
প্রধানদের আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তটি জানাতে এবং নিয়ম যথাযথভাবে
মানা হচ্ছে কি না, তা
নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে।এ ঘটনায়
২০০২ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনাও সামনে
এসেছে। সে সময় মুর্শিদাবাদের
হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি
রাখার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ১৯৯৬
সালে হজ করার পর
থেকে তিনি ইসলামি বিধান
অনুযায়ী দাড়ি রাখছিলেন। তৎকালীন
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং তাঁকে দাড়ি
কাটতে বা ছেঁটে ফেলতে
বললেও তিনি তা মানতে
অস্বীকৃতি জানান।
পরে
তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
দেওয়া হয় এবং ১৯৪৩
সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর
বিধান অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই
সময় পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান কে এম ইউসুফ
বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু কমিশনের
হস্তক্ষেপে আকরাম আলী শেখের বরখাস্তের
আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।