ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
365 D News

গণপূর্তের প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে অভিযোগের স্তূপ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১–এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ চাকরিজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময় তার কর্মকাণ্ড নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নিয়ে প্রশ্নঅভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ভূমিকা রেখেছে। ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১–এ তার পদায়ন নিয়েও অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।তবে তার পদায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্পদ অর্জন নিয়ে অভিযোগদুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া একটি অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায়, চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্প ও ঠিকাদারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এসব সম্পদের উৎস, বৈধতা বা অবৈধতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিয়ে অভিযোগঅভিযোগে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জ, ভোলা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সাভারে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।অভিযোগকারীদের দাবি, ভোলা ও ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ময়মনসিংহে ভবনের নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।তবে এসব বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য তদন্ত প্রতিবেদন বা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাবের অভিযোগসাভার সার্কেলে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি নির্মাণকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ করেছেন।তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।পারিবারিক অভিযোগও সামনেবদরুল আলম খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। তার স্ত্রী গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সম্পদ, পারিবারিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।তার স্ত্রীর দাবি, পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ রাখা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার আচরণে পরিবর্তন এসেছে।বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টাঅভিযোগগুলোর বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।তদন্তের দাবিঅভিযোগকারীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, সরকারি অর্থ, উন্নয়ন প্রকল্প ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গণপূর্তের প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে অভিযোগের স্তূপ