ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
365 D News

চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিএনপি নেতা বাবলুর বিরুদ্ধে

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু ও তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার।গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে বাবলু ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।চার বিঘা জমি দখলের অভিযোগমানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।এ ছাড়া মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামে এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। এই বলয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের অভিযোগও করেন তাঁরা।সম্পদ নিয়ে প্রশ্নখালেকুজ্জামান বাবলুর সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, তুলনামূলক অল্প সময়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর ব্যবহৃত বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং বড় বাড়ির বিষয়টি উল্লেখ করে সম্পদের উৎস সম্পর্কে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।বাবলুর এক ভাগনে মিন্টু ৩ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বাবলুর কথিত মাদক-সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মিন্টুর গ্রেপ্তার কিংবা মাদক কারবারের সঙ্গে বাবলুর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ অভিযোগকারীরা উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অন্য কোনো বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করলেও হামলার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগস্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, বাবলু বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সুবিধাভোগীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁদের দাবি।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ ‘বানোয়াট’ বলছে বিএনপিমানববন্ধনের পর কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।ভুক্তভোগীরা বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমেই সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিএনপি নেতা বাবলুর বিরুদ্ধে