ইসরাইলের নির্বাচনে কঠিন সমীকরণ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু ও বিরোধীরা
ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসও
বাকি নেই। ২০২৩ সালের
৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর গাজা,
লেবানন ও ইরানকে ঘিরে
দীর্ঘ সংঘাতের পর দেশটির রাজনীতিতে
তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আগামী
২৭ অক্টোবরের নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতার
পালাবদলের প্রশ্ন নয়, বরং যুদ্ধ,
নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন
নিয়ে ভোটারদের মনোভাবেরও পরীক্ষা।প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাবেক
সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন
বিরোধী শিবির—কেউই সরকার গঠনের
জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা
নিশ্চিত করতে পারছে না
বলে সাম্প্রতিক জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে নির্বাচনের পরও
পার্লামেন্টে বিভক্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে।জরিপে
এগিয়ে
বিরোধী দলগুলো, জটিল
সরকার
গঠনের
হিসাবচ্যানেল ১৩-এর সাম্প্রতিক
এক জরিপে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলো ৫২টি আসন পেতে
পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া
হয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে
৫১টি আসন। জরিপে গাদি
আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির সম্ভাব্য আসন ২২টি এবং
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির ১৮টি দেখানো হয়েছে।তবে এই হিসাবের
কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১
আসনের সীমায় পৌঁছায়নি। ফলে নির্বাচনের পর
সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর
অবস্থান এবং সম্ভাব্য জোটের
সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।আইজেনকটের সামনে অবশ্য রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ইসরাইলি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী
কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট
সরকার গঠনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেছেন।
এতে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও সরকার
গঠনের পথ জটিল হতে
পারে।নেতানিয়াহুর অভিজ্ঞতা, আইজেনকটের যুদ্ধকালীন ক্ষতিনেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে
নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি
ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী
প্রধানমন্ত্রীদের একজন এবং লিকুদ
পার্টির নেতৃত্বে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।অন্যদিকে আইজেনকট ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ।
গাজায় যুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে
ও দুই ভাতিজা নিহত
হন। ২০২৩ সালের ৭
অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু যে
ঐক্য সরকার গঠন করেছিলেন, আইজেনকটও
প্রায় আট মাস সেই
সরকারের অংশ ছিলেন।তবে আসন্ন নির্বাচনে
দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী কৌশলের
পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়নও
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।সামরিক নিয়োগ
নিয়ে
সরকারের ভেতরেই বিরোধনির্বাচনের আগে ইসরাইলি সমাজের
অভ্যন্তরীণ বিভাজনও স্পষ্ট হচ্ছে। নেতানিয়াহুর সমর্থকদের পাশাপাশি তাঁর সরকারের যুদ্ধনীতি,
সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স
বা হারেদি ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি
দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে
রয়েছে। ২০২৪ সালে ইসরাইলের
সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, হারেদি
পুরুষদের সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি অব্যাহত
রাখার কোনো আইনি ভিত্তি
নেই। এরপর বিষয়টি আরও
উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।নেতানিয়াহুর জোটের গুরুত্বপূর্ণ হারেদি দলগুলো এ বিষয়ে তাঁর
সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি
করছে। ফলে সামরিক নিয়োগের
প্রশ্নটি শুধু সামাজিক বিতর্ক
নয়, ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মূল্যবৃদ্ধিও ভোটারদের উদ্বেগনির্বাচনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বড় বিষয় হয়ে
উঠেছে। আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের
মধ্যে গত দুই বছরে
ইসরাইলে খাদ্যের দাম বেড়েছে ৯
দশমিক ৫ শতাংশ। যুদ্ধের
প্রভাব ও জীবনযাত্রার ব্যয়
নিয়ে উদ্বেগও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০২৩ সালের
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটির
প্রথম জাতীয় নির্বাচন। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে কোনো পক্ষই সরকার
গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা
নিশ্চিত করতে পারছে না।
ফলে নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি পরবর্তী জোট গঠনের আলোচনা
ইসরাইলের নতুন সরকার নির্ধারণে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।