ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের মিঠাপুকুর গ্রামে রয়েছে সুলতানি আমলের প্রাচীন স্থাপনা নুনগোলা মসজিদ। স্থানীয়ভাবে ‘নুনগোলা ঢিবি মসজিদ’ নামেও পরিচিত এই স্থাপনাটি ষোড়শ শতকের বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির বেশির ভাগ অংশ এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
প্রাচীন এই
মসজিদটি বারোবাজারের মিঠাপুকুর গ্রামে অবস্থিত। এর পাশেই রয়েছে
একটি পুরোনো পুকুর, যা স্থানীয়ভাবে ‘নুনগোলা
পুকুর’ নামে পরিচিত। ওই
পুকুরের পাড়ে মসজিদটির অবস্থান
হওয়ায় এর নামকরণ হয়েছে
নুনগোলা মসজিদ।
এলাকাটির নামকরণ
নিয়ে আরেকটি ধারণাও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, অতীতে
এ এলাকায় লবণ সংগ্রহের একটি
ডিপো বা ঘাঁটি ছিল।
সেই সূত্রেও ‘নুনগোলা’ নামটির প্রচলন হয়ে থাকতে পারে
বলে ধারণা করা হয়।
সুলতানি
আমলের স্থাপত্য
নুনগোলা মসজিদ
মূলত একটি এক গম্বুজবিশিষ্ট
প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটির সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে
নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কারণ স্থাপনাটিতে কোনো শিলালিপি পাওয়া
যায়নি।
তবে এর
নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের ধারণা,
মসজিদটি সুলতানি আমলের শেষ দিকে নির্মিত
হয়েছিল। সে হিসেবে এটি
বাংলাদেশের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন
হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সংরক্ষণের
অভাবে ক্ষয়
দীর্ঘদিন মাটির
নিচে চাপা থাকা এবং
পরবর্তী সময়ে যথাযথ সংরক্ষণ
ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নুনগোলা মসজিদ বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। স্থাপনাটির বেশির ভাগ অংশই বিলুপ্ত
হয়ে গেছে।
ইতিহাস ও
প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে স্থাপনাটি নিয়ে
আরও গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ
উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরোনো
নথি, স্থানীয় ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য
অনুসন্ধানের মাধ্যমে মসজিদটির নির্মাণকাল ও ইতিহাস সম্পর্কে
নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা
যেতে পারে।
নুনগোলা মসজিদ
শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা
নয়, এটি ঝিনাইদহ অঞ্চলের
প্রাচীন ইতিহাস ও সুলতানি আমলের
স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ
নিদর্শন। তাই অবশিষ্ট স্থাপত্য
নিদর্শনগুলো সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
লেখক:
মোহাম্মাদ নাজমুল হক শামীম
সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ
ইতিহাস চর্চা পরিষদ