মাদক ব্যবসার অভিযোগে দেশের বহুল ব্যবহৃত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
এর আগে রোববার
বিকালে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর
রহমানকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ
অধিদপ্তর।
সংশোধিত আইনে প্রথম মামলা
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে
সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে
মাদক কেনাবেচার বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত
আইনের এই ধারায় এটি
প্রথম মামলা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস
ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা
সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ,
প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে জড়িত
হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০
লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান
রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে চায়। এ কারণে
সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে
মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দারাজ
ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি চলছে।
ফ্ল্যাটে মিলল সিবিটি ওয়েল ও উপকরণ
নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা
অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, দারাজে বিক্রি হওয়া একটি পণ্যে
মাদক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যের
কারখানায় অভিযান চালানো হয়।
রোববার বিকালে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান
চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিটি ওয়েল ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময়
কারখানার মালিক ও দারাজের পণ্য
সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন জাপানে ছিলেন। সেখানে তিনি গাঁজার তরল
উপাদান ব্যবহার করে এক ধরনের
তেল তৈরির কৌশল রপ্ত করেন।
পরে ঢাকায় ফিরে সুগন্ধী সাবান
তৈরির আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে
পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।