নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ–সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ দাম কার্যকর হয়। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি যুক্ত হবে। বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
অলংকার বিনিময় বা পুরোনো স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে ২১ জুলাইও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেদিন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ বার দাম বেড়েছে, ৪৭ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ দফা মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।
সংগঠনটির তথ্যমতে, চলতি বছরে রুপার দাম ৫৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ বার দাম বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ বার। এর মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ৩ বার কমানো হয়।
সূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।