ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
365 D News

নন্দীপাড়ায় হিন্দু মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ



নন্দীপাড়ায় হিন্দু মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ
ছবি: সংগ্রহ

ঢাকার নন্দীপাড়া মৌজায় ৪১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে জটিল হয়েছে। ১৯৬০ সালের বিক্রয় দলিলের পর একই জমি ১৯৭১ সালে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলহাজ্ব গ্রুপের মালিক আব্দুল আলী গংয়ের বিরুদ্ধে হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করেছেন রাম আনন্দ মন্ডলের পক্ষ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিএস দাগ ৭৬৯-এর আরএস রেকর্ডীয় মালিক নীরদ বালা দাস ১৯৬০ সালের ১৮ জুলাই ৯২৯২ নম্বর দলিলে ৪১ শতাংশ জমি রূপচাঁদ মন্ডল ও গোপীচাঁদ মন্ডলের কাছে বিক্রি করেন। রূপচাঁদ ১৯৬৭ সালে মারা গেলে তাঁর ছেলে রাম আনন্দ মন্ডল ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের দখলের দাবি করেন।

তবে একই জমি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নামে নামজারি হওয়ার পর ২৪/২৫ নম্বর মিস কেসের মাধ্যমে তা বাতিল করে রাম আনন্দের নামে নামজারি করা হয়। ২০২৫–২৬ সনের ১২৬৯১ (IX-I) নম্বর নামজারি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তাঁর নামে সম্পন্ন হয় বলে তাঁর পক্ষ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের ৭৬৮১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে আব্দুল আলী গং জমিটির মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগ। রাম আনন্দের পক্ষের প্রশ্ন, ১৯৬০ সালে জমি বিক্রি হয়ে থাকলে রূপচাঁদ ও গোপীচাঁদের ভাই লেবুচাঁন মন্ডল ১৯৭১ সালে একই জমি কীভাবে বিক্রি করলেন।

লেবুচাঁন জমিটি বিক্রি করেননি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকদের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা মূল দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এদিকে নামজারি বাতিল ও জমি দখলের জন্য ভূমি অফিসে চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগও করেছে রাম আনন্দের পক্ষ। জমির বিরোধ নিয়ে মিস আপিল ৪৩৮/২০২৪ ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) কার্যালয়ে এবং পরবর্তীতে রিভিশন মামলা ৩-২১১/২০২৬ ভূমি আপিল বোর্ডে করা হয়েছে।

রাম আনন্দের পক্ষের দাবি, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১৭ আগস্ট ২০২৬ আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে মামলার বাদী করা হয়নি।

জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের দুই দলিল, উত্তরাধিকার, রেজিস্ট্রি রেকর্ড, নামজারি এবং ভূমি কর্তৃপক্ষের আদেশ যাচাই করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ওঠা আত্মসাত, চাপ ও হুমকির অভিযোগেরও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

বিষয় : ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের দলিল ভূমি আপিল নামজারি নন্দীপাড়া জমি বিরোধ

365 D News

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


নন্দীপাড়ায় হিন্দু মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার নন্দীপাড়া মৌজায় ৪১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে জটিল হয়েছে। ১৯৬০ সালের বিক্রয় দলিলের পর একই জমি ১৯৭১ সালে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলহাজ্ব গ্রুপের মালিক আব্দুল আলী গংয়ের বিরুদ্ধে হিন্দু মালিকের জমি আত্মসাতের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করেছেন রাম আনন্দ মন্ডলের পক্ষ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিএস দাগ ৭৬৯-এর আরএস রেকর্ডীয় মালিক নীরদ বালা দাস ১৯৬০ সালের ১৮ জুলাই ৯২৯২ নম্বর দলিলে ৪১ শতাংশ জমি রূপচাঁদ মন্ডল ও গোপীচাঁদ মন্ডলের কাছে বিক্রি করেন। রূপচাঁদ ১৯৬৭ সালে মারা গেলে তাঁর ছেলে রাম আনন্দ মন্ডল ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের দখলের দাবি করেন।

তবে একই জমি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নামে নামজারি হওয়ার পর ২৪/২৫ নম্বর মিস কেসের মাধ্যমে তা বাতিল করে রাম আনন্দের নামে নামজারি করা হয়। ২০২৫–২৬ সনের ১২৬৯১ (IX-I) নম্বর নামজারি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তাঁর নামে সম্পন্ন হয় বলে তাঁর পক্ষ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের ৭৬৮১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে আব্দুল আলী গং জমিটির মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগ। রাম আনন্দের পক্ষের প্রশ্ন, ১৯৬০ সালে জমি বিক্রি হয়ে থাকলে রূপচাঁদ ও গোপীচাঁদের ভাই লেবুচাঁন মন্ডল ১৯৭১ সালে একই জমি কীভাবে বিক্রি করলেন।

লেবুচাঁন জমিটি বিক্রি করেননি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকদের জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা মূল দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এদিকে নামজারি বাতিল ও জমি দখলের জন্য ভূমি অফিসে চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগও করেছে রাম আনন্দের পক্ষ। জমির বিরোধ নিয়ে মিস আপিল ৪৩৮/২০২৪ ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) কার্যালয়ে এবং পরবর্তীতে রিভিশন মামলা ৩-২১১/২০২৬ ভূমি আপিল বোর্ডে করা হয়েছে।

রাম আনন্দের পক্ষের দাবি, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১৭ আগস্ট ২০২৬ আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে মামলার বাদী করা হয়নি।

জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে ১৯৬০ ও ১৯৭১ সালের দুই দলিল, উত্তরাধিকার, রেজিস্ট্রি রেকর্ড, নামজারি এবং ভূমি কর্তৃপক্ষের আদেশ যাচাই করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ওঠা আত্মসাত, চাপ ও হুমকির অভিযোগেরও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।


365 D News


কপিরাইট © ২০২৬ 365 D News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নন্দীপাড়ায় হিন্দু মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ
0:00 0:00
1.0x