৫ আগস্টের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখলের সংস্কৃতিতে ভাটা পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে ও প্রতিবাদ করতে পারছেন। তবে ক্যাম্পাসে নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের পুরোনো সংস্কৃতি যাতে ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রোববার
দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক
ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি
এ সভার আয়োজন করে।
আখতার
হোসেন বলেন, তাঁরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
হয়েছিলেন, তখন কথা বলার
পরিবেশ ছিল না। অন্যায়ের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা জীবনের ঝুঁকি
নেওয়ার মতো বিষয় ছিল।
তবে ৫ আগস্টের পর
পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার
নিয়ে সরব হতে পারছেন।
তিনি
বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো হল দখলের
রাজনীতি করবে না। কেউ
হল দখল করতে এলে
সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই সবার
আগে প্রতিবাদে দাঁড়াবেন। শিক্ষার্থীদের হল শিক্ষার্থীদের কাছেই
থাকবে এবং ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের
জন্য নিরাপদ থাকবে- এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
তবে
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়ে
উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন।
তাঁর আশঙ্কা, এসব ঘটনা আবারও
ভয় ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ
তৈরি করতে পারে। নির্যাতন,
টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের
মতো পরিস্থিতি যাতে ফিরে না
আসে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট
সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা
সভায় সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান এনসিপির সদস্যসচিব। তাঁর অভিযোগ, সাহাবুদ্দিন
চুপ্পু ফ্যাসিবাদের একজন প্রতীক এবং
ব্যাংক লুটের সঙ্গেও জড়িত। ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস
আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার
অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে
বলে দাবি করেন তিনি।
আখতার
হোসেন আরও বলেন, সাহাবুদ্দিন
চুপ্পু বিদেশে বাড়ি করেছেন এবং
স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, এমন একজন ব্যক্তি
রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক
যোগ্যতা হারিয়েছেন।
শেখ
হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়েও সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত
করেছেন বলে অভিযোগ করেন
আখতার হোসেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী
ষড়যন্ত্র এবং বিদেশে অবস্থানকালে
শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলে তিনি এসব
বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সভায় অংশ নেন।