প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাকে হেনস্থা বন্ধে ১৫৮ শিক্ষকের বিবৃতি
হাবিবুর রহমান (বাপ্পী), রিপোর্টার ||
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকাব পরিহিতা এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে
হেনস্থার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি
করেছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের
১৫৮ জন শিক্ষক। একই
সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে
বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধে
ইসলামোফোবিয়াবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান
জানিয়েছেন তাঁরা।বুধবার
‘মূল্যবোধ আন্দোলন’-এর মুখপাত্র প্রকৌশলী
মুহাম্মাদ সাদাতের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব
দাবি জানানো হয়।বিবৃতিতে
শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকাব
পরা এক নারী শিক্ষার্থীকে
শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ্যে অপমান এবং তাঁর শারীরিক
গঠন নিয়ে বিদ্রূপ করার অভিযোগে তাঁরা
গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ
করছেন। অডিও রেকর্ডে ওই
শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পোশাক, ধর্মীয় রীতিনীতি ও শারীরিক গঠন
নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য শোনা গেছে বলে
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।শিক্ষকদের
মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষকের কাছ
থেকে এ ধরনের অসংবেদনশীল
ও বৈষম্যমূলক আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
তাঁরা ঘটনাটিকে ইসলামোফোবিয়ার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি
শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে।ধর্মীয় পোশাক
পরা
নারীরা বেশি
বৈষম্যের শিকার:
বিবৃতিবিবৃতিতে
একটি সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে
বলা হয়, দৃশ্যমানভাবে ধর্মপালনকারী
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক ও
তরুণ পেশাজীবীদের ৫৫ দশমিক ৭
শতাংশ শিক্ষাগত বা পেশাগত ক্ষেত্রে
সরাসরি বৈষম্য ও হয়রানির শিকার
হয়েছেন। এসব ইসলামোফোবিয়ার ঘটনার
৬৩ দশমিক ৪ শতাংশের জন্য
শিক্ষকরা দায়ী বলে গবেষণায় উঠে
এসেছে বলে বিবৃতিতে দাবি
করা হয়।এতে
আরও বলা হয়, পুরুষদের
তুলনায় হিজাব-নিকাব বা ধর্মীয় পোশাক
পরা নারীরা ইসলামোফোবিয়ার বেশি শিকার হচ্ছেন।শিক্ষকরা
অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে না দাঁড়িয়ে
কিছু শিক্ষক ও তাঁদের সংগঠন
একাডেমিক স্বাধীনতা এবং শিক্ষকের অধিকারের
যুক্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তাঁদের মতে, একাডেমিক স্বাধীনতার
দোহাই দিয়ে শ্রেণিকক্ষে কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করা কিংবা তাঁর
ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই।অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিবিবৃতিতে
অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে অবিলম্বে শিক্ষাদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার
দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন
শিক্ষকরা।দেশের
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে
হেনস্থা বন্ধে ইসলামোফোবিয়াবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করারও
দাবি জানানো হয়।বিবৃতিতে ৩৫
অধ্যাপকসহ ১৫৮
শিক্ষকবিবৃতিতে
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৩৫ জন অধ্যাপক,
২৭ জন সহযোগী অধ্যাপক,
৪৫ জন সহকারী অধ্যাপক
ও ৫১ জন প্রভাষক।বিবৃতিদাতা
শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধডটকম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বলে
জানানো হয়।বিবৃতিতে
উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
ড. মানজুরুল করিম ও অধ্যাপক
ড. জুলফিকার হাসান খান, বাংলাদেশ প্রকৌশল
বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাসুদ
করিম, ঢাকা প্রকৌশল ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল
ইসলাম এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি,
বাংলাদেশের (আইইউবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার
হোসেন।এ
ছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম
ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল
হাসনাত, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক উপাচার্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার
রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কুমিল্লা মেডিকেল
কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফ
মোর্শেদ খান এবং মেডিকেল
কলেজ ফর ওমেন অ্যান্ড
হসপিটালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিলিভা মোজাফফর
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।স্বাক্ষরকারীদের
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাফিউল ইসলাম,
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ
রেজওয়ান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধ্যাপক আব্দুল লতিফ এবং মানারাত
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীর মনজুর
মাহমুদ।সূত্র:
মূল্যবোধ আন্দোলনের বিবৃতি
কপিরাইট © ২০২৬ 365 D News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত