প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
পরিত্যক্ত জমিতে কলার বাগান, ২.৫ লাখ টাকায় স্বপ্ন দেখছেন ৯ লাখ আয়ের
মো: আশিকুর রহমান আশিক, রিপোর্টার ||
সারি সারি
সবুজ
কলাগাছ। কোথাও
পাতার
আড়ালে
বড়
কাঁদি,
কোথাও
আবার
পাকা
কলার
ভারে
নুয়ে
পড়েছে
গাছ।
দূর
থেকে
সাধারণ
কলাবাগান মনে
হলেও
কাছে
গেলে
চোখে
পড়ে
ভিন্ন
চিত্র।
তুলনামূলক ছোট
গাছে
ঝুলছে
বড়
বড়
কাঁদি।ফরিদপুরের বোয়ালমারী সদর
ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের এমনই
একটি
কলাবাগান গড়ে
তুলেছেন কৃষক
হাফিজুর রহমান
সরদার
(৪৫)। মাছচাষ ও
ফিলিপাইন জাতের
আখ
চাষের
পর
এবার
রঙিন
সাগর
ও
চাপা-সবরি জাতের কলা
চাষ
করে
সাড়া
ফেলেছেন তিনি।চার একর জমিতে
১,৭০০ গাছপ্রায় চার
একর
জমিতে
হাফিজুরের বাগানে
রয়েছে
১
হাজার
৭০০
কলাগাছ। এর
মধ্যে
প্রায়
১
হাজার
২০০টি
রঙিন
সাগর
এবং
বাকিগুলো চাপা-সবরি জাতের।গত বছরের
আশ্বিন
মাসে
গাছগুলো রোপণ
করা
হয়।
প্রায়
১০
মাস
পর
অধিকাংশ গাছে
ফলন
এসেছে।
এখন
বাগানের সারি
সারি
গাছে
ঝুলছে
কলার
কাঁদি।হাফিজুরের দাবি,
বাগান
তৈরি
থেকে
শুরু
করে
ফলন
আসা
পর্যন্ত তাঁর
খরচ
হয়েছে
প্রায়
আড়াই
লাখ
টাকা।
এ
পর্যন্ত যে
ফলন
হয়েছে,
তাতে
সব
মিলিয়ে
প্রায়
৮
থেকে
৯
লাখ
টাকার
কলা
বিক্রি
করতে
পারবেন
বলে
আশা
করছেন
তিনি।প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ১৫
থেকে
২০
কাঁদিবর্তমানে বাগানে
ব্যস্ত
সময়
পার
করছেন
হাফিজুর। পরিপক্ব কাঁদি
কাটা
হচ্ছে,
পাশাপাশি নতুন
গাছেও
ফলন
আসছে।কৃষকের দেওয়া
তথ্য
অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে
১৫
থেকে
২০
কাঁদি
রঙিন
সাগর
কলা
বিক্রি
হচ্ছে।
আকার
ও
মানভেদে প্রতি
কাঁদি
পাইকারি ৬০০
থেকে
৮০০
টাকা
দরে
বিক্রি
হচ্ছে।নিয়মিত বিক্রি
অব্যাহত থাকলে
দ্রুতই
বিনিয়োগের টাকা
উঠে
আসবে
বলে
আশা
করছেন
তিনি।কলার চারাতেও বাড়তি
আয়হাফিজুরের আয়ের
উৎস
শুধু
কলা
বিক্রি
নয়।
প্রতিটি পরিপক্ব গাছের
গোড়ায়
তিন
থেকে
চারটি
করে
চারা
জন্মাচ্ছে। এসব
চারা
স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায়
২৫
থেকে
৩০
টাকা
করে
বিক্রি
করছেন
তিনি।ফলে একই
জমি
থেকে
ফলনের
পাশাপাশি চারাও
বিক্রি
করে
বাড়তি
আয়
করছেন
এই
কৃষক।পরিত্যক্ত জমি থেকেই শুরুহাফিজুর রহমান
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর
গ্রামের মৃত
আব্দুর
রাজ্জাক সরদারের ছেলে।
বর্তমানে তিনি
বোয়ালমারীর সৈয়দপুর এলাকায়
বসবাস
করছেন।স্থানীয় সাবেক
ইউপি
চেয়ারম্যান এ
কে
এম
হামিদুল বারী
বরুণ
মিয়ার
কাছ
থেকে
জমি
লিজ
নিয়ে
কলা
চাষ
শুরু
করেন
তিনি।
জমিটির
একটি
বড়
অংশ
আগে
পরিত্যক্ত ছিল।
সেটি
পরিষ্কার করে
চাষের
উপযোগী
করে
তোলেন
হাফিজুর।তিনি বলেন,
বিভিন্ন সময়ে
বিভিন্ন ধরনের
কৃষিকাজের সঙ্গে
যুক্ত
ছিলেন।
মাছ
চাষের
পর
ফিলিপাইন জাতের
আখ
চাষ
করেন।
পরে
নতুন
কিছু
করার
চিন্তা
থেকেই
কলা
চাষে
আগ্রহী
হন।হাফিজুরের ভাষায়,
‘পরিত্যক্ত জমি
পরিষ্কার করে
কলার
চারা
লাগাই।
শুরুতে
বুঝতে
পারছিলাম না
ফলন
কেমন
হবে।
নিয়মিত
পরিচর্যা করতে
থাকি।
প্রায়
১০
মাস
পর
যখন
গাছে
গাছে
কলা
ধরতে
শুরু
করল,
তখন
নিজের
কাছেই
খুব
ভালো
লাগতে
থাকে।
এখন
প্রতিদিন বাগান
থেকে
কলা
বিক্রি
করছি।’কৃষি বিভাগ দেবে
সহযোগিতাবোয়ালমারী উপজেলা
কৃষি
কর্মকর্তা আলভীর
রহমান
বলেন,
কলার
এই
বাগানের বিষয়ে
তাঁরা
আগে
অবগত
ছিলেন
না।
তবে
প্রয়োজন হলে
কৃষি
বিভাগের পক্ষ
থেকে
হাফিজুরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও
পরামর্শ দেওয়া
হবে।তিনি বলেন,
স্থানীয়ভাবে কলার
উৎপাদন
বাড়ানো
গেলে
এলাকার
চাহিদা
পূরণের
পাশাপাশি কৃষকের
আয়ও
বাড়বে।বোয়ালমারী উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা এস
এম
রকিবুল
হাসান
বলেন,
কলা
পুষ্টিসমৃদ্ধ ও
শক্তিদায়ক ফল।
এতে
ভিটামিন, খনিজ
ও
আঁশ
রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এ
ধরনের
ফলের
উৎপাদন
বাড়ানো
গেলে
মানুষের পুষ্টির চাহিদা
পূরণে
ভূমিকা
রাখবে।কৃষক হাফিজুর রহমানের কোনো
ধরনের
সহযোগিতার প্রয়োজন হলে
উপজেলা
প্রশাসনের পক্ষ
থেকে
তা
করার
উদ্যোগ
নেওয়া
হবে
বলেও
জানান
তিনি।
কপিরাইট © ২০২৬ 365 D News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত