প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জরুরি বিল দিতে ব্যাংক অ্যাপেই মিলবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ
শেখ মো: বেলায়েত হোসেন, রিপোর্টার ||
হঠাৎ বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, সন্তানের স্কুলের
বেতন কিংবা হাসপাতালের খরচ দিতে গিয়ে
অর্থসংকটে পড়লে ব্যাংকিং অ্যাপের
মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা
পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুযোগ চালুর
উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই ঋণের
অর্থ গ্রাহকের হাতে নগদ হিসেবে
দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট
জরুরি সেবার বিল পরিশোধের জন্য
সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের
সুযোগ দেওয়া হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের
উদ্যোগটির নাম দেওয়া হচ্ছে
‘জরুরি পেমেন্ট সেবা’।
এর আওতায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল,
মোবাইল রিচার্জ, সন্তানের স্কুলের বেতন, হাসপাতালের বিল, ডিপিএসের কিস্তি
কিংবা বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধের মতো প্রয়োজন মেটাতে
স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া যাবে।ঋণের
টাকা পাওয়া যাবে না নগদেনতুন ব্যবস্থায়
ঋণের অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক
হিসাবে জমা হবে না।
বরং জরুরি কোনো বিল পরিশোধের
প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সেবার
বিপরীতে সরাসরি অর্থ পরিশোধের সুযোগ
থাকবে। ফলে ঋণের অর্থ
অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের
সুযোগ থাকবে না।এই ঋণের
জন্য ব্যাংক কোনো সুদ নেবে
না। তবে নির্ধারিত হারে
মাশুল দিতে হবে। ঋণের
মেয়াদ হতে পারে ৭,
১৫
অথবা
৩০
দিন। বাংলাদেশ ব্যাংকের
কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০
টাকা পর্যন্ত ঋণে সাত, ১৫
ও ৩০ দিনের জন্য
সর্বোচ্চ মাশুল যথাক্রমে ৩, ৪ ও
৬ টাকা। ২৫১ থেকে ৫০০
টাকা পর্যন্ত ঋণে মাশুল হবে
যথাক্রমে ৫, ৮ ও
১৫ টাকা।৫০১ থেকে
১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে
মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে
৭, ১২ ও ২০
টাকা। ১ হাজার ১
টাকা থেকে ২ হাজার
টাকা পর্যন্ত ঋণে তা হবে
১০, ২০ ও ৩০
টাকা। ২ হাজার
১ টাকা থেকে ৩
হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের
ক্ষেত্রে মাশুল দিতে হবে যথাক্রমে
১৫, ৩০ ও ৫০
টাকা। ৩ হাজার ১
টাকা থেকে ৫ হাজার
টাকা পর্যন্ত ঋণে সাত, ১৫
ও ৩০ দিনের জন্য
সর্বোচ্চ মাশুল যথাক্রমে ২০, ৪০ ও
৭০ টাকা।৫ হাজার
১ টাকা থেকে ৭
হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণে
মাশুল হবে যথাক্রমে ২৫,
৫০ ও ৯০ টাকা।
আর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা
ঋণের ক্ষেত্রে সাত দিনের জন্য
৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য
৭০ টাকা এবং ৩০
দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৩০
টাকা মাশুল দিতে হবে। অর্থাৎ ১০
হাজার টাকা ঋণ নিয়ে
৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে মূল টাকার
সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা মাশুল
দিতে হবে। ১৫ দিনের
ক্ষেত্রে মাশুল ৭০ টাকা এবং
সাত দিনের ক্ষেত্রে ৩৫ টাকা।ডিজিটাল
লেনদেনে বাড়তে পারে গতিসিটি ব্যাংক
পিএলসির ডিএমডি অরূপ হায়দারের মতে,
উদ্যোগটি চালু হলে দৈনন্দিন
জরুরি পেমেন্টের সময় গ্রাহকের সাময়িক
তারল্যসংকট কাটাতে এটি কার্যকর হতে
পারে। তিনি বলেন,
জরুরি মুহূর্তে বিল পরিশোধের জন্য
তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন হয়। নতুন এই
সুবিধা সেই স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন
পূরণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এ ধরনের ঋণসুবিধা
মানুষকে আরও বেশি ডিজিটাল
পেমেন্টে অভ্যস্ত করবে, যা নগদনির্ভরতা কমিয়ে
ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখতে পারে।অরূপ হায়দার
আরও বলেন, প্রথম দেখায় উদ্যোগটি খুব বড় কোনো
বিষয় মনে না হলেও
বাস্তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ
মাইলফলক হতে পারে। ব্যাংকগুলো
এই সুবিধা চালু করলে বিপুলসংখ্যক
গ্রাহকের কাছে তা পৌঁছে
দেওয়া সম্ভব হবে।কারা
পাবেন এই সুবিধামূলত ব্যাংকিং
অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্যই এ সুবিধা চালুর
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং
প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকেরা নানা ধরনের লেনদেন
করছেন। এর মধ্যে সিটি
ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাসপে এবং সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে
জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ব্যাংকিং
অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। তবে শুধু
ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ পাওয়ার সুযোগ
থাকবে না। কোন গ্রাহক
কত টাকা পর্যন্ত এই
সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। বাংলাদেশ
ব্যাংকের এ উদ্যোগের লক্ষ্য
হলো জরুরি সময়ে গ্রাহকের সাময়িক
অর্থসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দৈনন্দিন পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও
ডিজিটাল করা।
কপিরাইট © ২০২৬ 365 D News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত