প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
পাকিস্তানের বালতিস্তানে বাড়ছে বিদেশি পর্যটক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান
উত্তেজনা এবং জ্বালানির দামের
ওঠানামার মধ্যেও পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানে বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের আগমন
বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল
থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২০০
জনের বেশি বিদেশি অভিযাত্রী
অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছেন।গিলগিট-বালতিস্তান
পর্যটন বিভাগের উপপরিচালক সাজিদ হুসেইনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের
কয়েকটি উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ জয় এবং দুর্গম
এলাকায় ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে এসব বিদেশি পর্যটক
সেখানে গেছেন। তাঁদের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে-টু, নাঙ্গা
পর্বত, ব্রড পিক, গ্যাশারব্রুম-১ ও গ্যাশারব্রুম-২।১০ হাজার ছাড়াতে পারে পর্যটককর্মকর্তারা বলছেন,
চলতি বছর বসন্ত, গ্রীষ্ম
ও শরৎ এই তিন
মৌসুম মিলিয়ে গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ও উন্মুক্ত অঞ্চলে
বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে
যেতে পারে। এসব উন্মুক্ত পর্যটন
এলাকায় বিদেশিদের জন্য বিশেষ অনুমতির
প্রয়োজন হয় না।গত বছরের
তুলনায় এবার বিদেশি অভিযাত্রীর
সংখ্যা বেড়েছে। পর্যটন কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও
ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির
কারণে গিলগিট-বালতিস্তানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের
আগমন কমে গিয়েছিল।অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ট্রেকিংএবার পর্বতারোহণের
মৌসুম শেষ হলেও ট্রেকারদের
যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। কে-টু বেস
ক্যাম্পের মতো দুর্গম এলাকাতেও
পর্যটকেরা যাচ্ছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত ট্রেকারদের আগমন অব্যাহত থাকার
সম্ভাবনা রয়েছে।চলতি বছরের
৩০ জুন পর্যন্ত পর্বতারোহণ
ও ট্রেকিংয়ের অনুমতিপত্র থেকে গিলগিট-বালতিস্তান
সরকার প্রায় ৩৫ কোটি পাকিস্তানি
রুপি আয় করেছে।আলপাইন ক্লাব
অব পাকিস্তানের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইরফান
আরশাদ খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের
অনিশ্চয়তা, জ্বালানির দামের ওঠানামা ও অন্যান্য প্রতিকূলতার
মধ্যেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। পর্যটনের কারণে স্থানীয় পোর্টার, হোটেল মালিক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও দোকানদারেরা সরাসরি
লাভবান হন।আগামী বছর ৪ হাজারের বেশি অভিযাত্রীর আশাইরফান আরশাদ
খান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অনেক দেশ তাদের
নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছিল। পাশাপাশি
বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকারদের অনুমতিপত্র
দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হয়েছে।তাঁর মতে,
এসব সমস্যা না থাকলে চলতি
বছর বিদেশি অভিযাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০-এর চেয়েও বেশি
হতে পারত। আগামী বছর ৪ হাজারের
বেশি বিদেশি পর্বতারোহী ও ট্রেকার গিলগিট-বালতিস্তানে আসতে পারেন বলে
আশা করছেন তিনি।তবে বড়
পর্বতশৃঙ্গগুলোতে সাফল্যের হার এখনো কম।
তুষারধস, পাথরধস, প্রচণ্ড বাতাস এবং উচ্চতার কারণে
অনিশ্চিত আবহাওয়া পর্বতারোহীদের জন্য বড় ঝুঁকি
হয়ে রয়েছে।
সূত্র:
ডন
কপিরাইট © ২০২৬ 365 D News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত