প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
হাবিবুর রহমান (বাপ্পী), স্টাফ রিপোর্টার ||
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৪৯টি
সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক
প্রধান
ও
সহকারী
শিক্ষককে কারণ
দর্শানোর (শোকজ)
নোটিশ
দিয়েছে
উপজেলা
প্রাথমিক শিক্ষা
অফিস।
শিক্ষার্থীদের মৌলিক
স্বাক্ষরতা ও
সংখ্যা
জ্ঞান
(এফএলএন)
কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন
করতে
না
পারার
অভিযোগে এ
পদক্ষেপ নেওয়া
হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০
জুলাই)
সন্ধ্যায় বিষয়টি
নিশ্চিত করেন
চাটমোহর উপজেলা
প্রাথমিক শিক্ষা
কর্মকর্তা মোহা.
আব্দুল
গনি।উপজেলা শিক্ষা
অফিস
সূত্র
জানায়,
জেলা
প্রাথমিক শিক্ষা
অফিসের
৩৮.০১.৭৬২২.০০০.১৬.০০১.২৬-৬১৯ নম্বর স্মারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮০
দিনের
কর্মপরিকল্পনার আওতায়
গত
৩০
জুনের
মধ্যে
তৃতীয়
শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা
পাঠে
সাবলীলতা, চতুর্থ
শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের
চারটি
মৌলিক
নিয়ম- যোগ, বিয়োগ, গুণ
ও
ভাগ এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি
পাঠে
সাবলীলতা নিশ্চিত করার
লক্ষ্য
নির্ধারণ করা
হয়েছিল। তবে
সংশ্লিষ্ট ৪৯টি
বিদ্যালয়ে সেই
লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত
না
হওয়ায়
শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া
হয়েছে।নোটিশে উল্লেখ
করা
হয়েছে,
একাধিক
নির্দেশনা ও
নিয়মিত
তদারকির পরও
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কার্যকর উদ্যোগ
নিতে
ব্যর্থ
হয়েছেন
বলে
প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ
কারণে
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন
তাদের
বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া
হবে
না,
সে
বিষয়ে
আগামী
তিন
কার্যদিবসের মধ্যে
লিখিত
ব্যাখ্যা দিতে
বলা
হয়েছে।শিক্ষা অফিসের
একাধিক
কর্মকর্তা জানান,
শিক্ষার্থীদের মৌলিক
শিখন
দক্ষতা
নিশ্চিত করতে
সরকার
এফএলএন
কর্মসূচিকে বিশেষ
গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে
লক্ষ্যমাত্রা অর্জন
না
হওয়ায়
সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায়
আনার
সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে।শোকজপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে
রয়েছে
শালিখা,
দোলং,
রামনগর,
ভাদ্রা,
ধরইল,
হরিপুর
চরইকোল,
উথুলী,
আশঙ্কা,
ফৈলজানা, কুয়াবাসি, পবাখালী, ঈদিলপুর, শরৎগঞ্জ, জগন্নাথপুর, কচুগাড়ী, ঘাসিখোলা, লক্ষীপুর, সাইপাই,
দীঘুলিয়া, কুঠিপাড়া, দেয়ারপাড়া, মেঘারপাড়া, কচিয়া,
সোহাগবাড়ি, লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া, আলমনগর,
বোয়ালিয়া, বনগ্রাম, আরিঙ্গাইল, বারোকোনা, বালুদিয়ার, জামালপুর, বনগ্রাম চকপাড়া,
শুইগ্রাম, খতবাড়ী
পুরানপাড়া, বামনগ্রাম-১
ও
২,
ভবানীপুর, দিলালপুর, কাটাখালি, নেয়তিগাছা, লাউতিয়া এবং
ধানবিলা ফয়েজ
উদ্দিন
সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট
৪৯টি
প্রতিষ্ঠান।এদিকে, শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন
শিক্ষক
নাম
প্রকাশ
না
করার
শর্তে
বলেন,
অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং
প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে
বাধা
হয়ে
দাঁড়িয়েছে। এসব
বিষয়
তুলে
ধরে
তারা
লিখিত
ব্যাখ্যা দেবেন
বলে
জানান।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা
কর্মকর্তা মোহা.
আব্দুল
গনি
বলেন,
উপজেলার ৪৯টি
সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব
শিক্ষকই নোটিশের আওতায়
রয়েছেন। কোনো
বিদ্যালয়ে তিনজন,
কোথাও
চারজন
বা
তারও
বেশি
শিক্ষককে শোকজ
করা
হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে
সন্তোষজনক জবাব
না
পাওয়া
গেলে
বিধি
অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।